‘চিত্রকলা, দর্শন, সংগীত, ভাষা, গ্রন্থপাঠ ও মঞ্চনাটক নিয়ে মোট ১৬টি প্রবন্ধের এক অনবদ্য সংকলন এটি। প্রত্যেক লেখাতেই পাঠক নতুন ভাবনার মুখোমুখি হবেন।’
ফ্ল্যাপের এই অংশে যে ‘নতুন ভাবনা’র মুখোমুখি হবার কথা বলা হচ্ছে পাঠকদের, তার সাথে খানিকটা পরিচিত হওয়ার বাসনা থেকেই মূলত বইটি পড়তে শুরু করি। পাঠশেষে সামষ্টিক উপলব্ধি কিম্বা জ্ঞানগত অভিজ্ঞতা (পরি)পূর্ণ হয়েছে এমন দাবি করছি না আপাতত। সেটা বুঝা যাবে এই লেখাটি পুরো পড়লে। তথাপি এই বইয়ের সাথে ‘অভাবী’দের পরিচয় করিয়ে দেওয়াটাই এই রচনার মূল উদ্দেশ্য।
চিত্রকলা চিন্তা : লিওনার্দোর চিতা—দৃষ্টির বিবর্তন
চিত্রকলা বিচারে চোখের ভূমিকা প্রধান। কোনো কিছু দেখতে দেখতে আমাদের মননে-মগজে নানা বোধের উদয় হয়, অবচেতনে; তৈরি হয় রুচি। এভাবেই আস্তে আস্তে আমাদের দেখার চোখ পাল্টে যেতে থাকে। কিন্তু কখনো কখনো আমাদের এই দৃষ্টি সংবেদনশীলতা (কালিক-স্থানিক প্রেক্ষাপটে) শিল্পকর্মের মূল ভাবনা-ভঙ্গিকে বুঝে উঠতে কিম্বা অন্যের কাছে মূর্ত করে তুলতে যথেষ্ট হয় না। এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজন হয় বিশেষজ্ঞ বা সমঝদার লোকের বিশ্লেষণমূলক দিকনির্দেশনার, যার মাধ্যমে আমাদের সাধারণ ‘চোখ’ থেকে সত্যিকারের ‘দেখা’র দৃষ্টি তৈরি হয়। এই সংকলনের চিত্রকলা বিষয়ক প্রবন্ধে লেখক নিজের সেই সমঝদারি বিশ্লেষণমূলক ভাবনাকেই পাঠকদের সাথে ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। বিশেষত, ‘দেয়ালে চাপা ভিঞ্চি : যুদ্ধে ছাপা শান্তি’ প্রবন্ধে লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির আঁকা ‘দ্য বেটল অব অ্যাংগিয়ারি’ বা ‘অ্যাংগিয়ারির যুদ্ধ’ ফ্রেস্কো বা দেয়ালচিত্রটি নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে লেখক তুলে ধরেছেন যে, যুদ্ধবিরোধী ভিঞ্চি কিভাবে নিজের বিশ্বাস থেকে সরে না এসেও এই যুদ্ধভিত্তিক ফ্রেস্কোর কাজে হাত দিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে সেই কাজ ছেড়ে চলে যান—এই বিশ্বাস ও বাস্তবতার দ্বন্দ্বই হলো এই রচনার মূল বিষয়।
‘অভাবের ভাব : তিন পাগলের মেলা’র খবর
বইটির সবচেয়ে গভীর ও জটিল অংশ হলো এর দর্শন বিষয়ক প্রবন্ধগুলো। ‘অচিনদেশ : লালন, ফ্রয়েড ও লাকাঁ’ প্রবন্ধে লেখক জানাচ্ছেন—‘প্রাচ্যের দার্শনিক চিন্তার সাথে লালনের কথাকে পাশাপাশি রেখে পশ্চিমের চিন্তকদের চিন্তা ও ভাবনার পর্যবেক্ষণ করাই এই রচনার একমাত্র উদ্দেশ্য।’
লেখকের উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে এসব বিষয়ে আমার যে চিন্তাগত অবস্থান; তার সাথে একটা বোঝাপড়া করার তাগিদ থেকেই মূলত পাঠ চালিয়ে নিয়ে যাওয়া।
লেখকের দাবি অনুযায়ী, লালনের ‘অচিন দেশ’ এবং ফ্রয়েড ও লাকাঁর ‘অচেতন’ তথা ‘ভাষা’ ও ‘ঈশ্বর বা ব্রহ্ম’—এসবের মধ্যে যে সাযুজ্য প্রথমে আবিষ্কার করেছিলেন সলিমুল্লাহ খান, এই প্রবন্ধে সেই আবিষ্কারকে পোক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে মাত্র। তবে এখানে একটি দ্বিমত জাগে—প্রাচ্যের চিন্তা চর্চার যে ঐতিহাসিক পরম্পরা; তার সাথে পাশ্চাত্যের আধুনিক চিন্তার সংশ্লেষ ঘটিয়ে পর্যালোচনাভিত্তিক যে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন তিনি শেষ পর্যন্ত, সেটাকে আমার অসম্পূর্ণ বলে মনে হয়েছে। কেননা পাশ্চাত্যের যেসব দার্শনিক চিন্তা প্রাসঙ্গিকভাবে তিনি হাজির করেছেন তার লেখায়; বিপরীতে প্রাচ্যের ‘প্রতিনিধিত্বশীল’ কোনো দার্শনিক বা চিন্তকের এ বিষয়ক (অ)পরিপূর্ণ কোনো ভাবনার উপলব্ধিযোগ্য অস্তিত্ব আমরা পাই না। আদৌ কি? কে জানে!
এতদসত্বেও আমি (আমার পাঠকীয় সীমাবদ্ধতা মেনে নিয়ে) স্বীকার করি, এখানে ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিয়ে যে বস্তুবাদী ধারণার একটা কাঠামোগত রূপ দিয়েছেন লেখক তার সাথে ঐক্যমত পোষণ করাটা আমার মতো পাঠকদের জন্য মোটেও সহজ ব্যাপার নয়। তারপরও, মাতৃভাষা বাংলায় দর্শনচর্চাকে গতিশীল করতে, একইসঙ্গে এবিষয়ে যুগে যুগে মানুষের যে চিন্তা-তৎপরতা; তার সাথে পাঠকদের কিঞ্চিৎ পরিচয় করিয়ে দিতে লেখকের এই প্রয়াস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করি।
এরপরে ‘পর ও পরম: লালন ও লাকাঁ’ প্রবন্ধে লালনের ‘আর আমারে মারিস নে মা’ গানটিকে উপলক্ষ করে লাকাঁর চিন্তায় ‘অপর’, ‘পর’ এবং ‘পরম’-এর সম্পর্কের দারুণ একটা প্রস্তাবনা হাজির করা হয়েছে। যেখানে লেখক ব্যাখ্যা করে দেখিয়েছেন, কিভাবে ‘অভাবের ভাবে’র উৎপত্তি হয় এবং পরবর্তীতে সারা জীবনব্যাপী এর বিস্তার ‘সহজ মানুষ’কে তাড়িয়ে বেড়ায়। লেখক বলছেন—
পৃথিবীতে জন্ম মানেই বিশ্ব সংসারে, আকারের সাগরে সাঁতার কাটা শুরু, মানে অভাবের ভাব জেঁকে বসা আর নিরন্তর সেই অভাবের ভাব দূর করতে অবিরাম ছোটাছুটি, কখনো কখনো পরমের নিষেধ অমান্য, অতঃপর অপরের হাতে শাস্তি ভোগ এবং অবশেষে ‘আর আমারে মারিস নে মা/ বলি মা তোর চরণ ধরে ননী চুরি আর করবনা।’
সংগীত ও ভাষা : সম্প্রদায়ের সম্পর্ক
পার্থ সারথী গুপ্তের ‘বাংলায় সংগীত ও সম্প্রদায়বাদ’ লেখাটি নিঃসন্দেহে এই সংকলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। এটি কেবল সংগীতের ইতিহাস নয়, বরং সংগীতের ধারার সঙ্গে কিভাবে সাম্প্রদায়িক ও সামাজিক বিভেদ বা ঐক্য জড়িয়ে আছে, সে বিষয়ে নতুন ভাবনা এনে দেয়।
‘গ্রন্থ ও মঞ্চনাটক : পাঠ প্রতিক্রিয়া’ পাঠের অভিজ্ঞতা
১.
পাঠ শুরু করেছিলাম বইটির শেষের দিক থেকেই। মূলত বিভিন্ন বই আর মঞ্চনাটকের প্রতিক্রিয়া হিসেবেই তৈরি করা হয়েছে এই অধ্যায়ের লেখাগুলো, যা বৃহত্তর মানবীয় আখ্যানের জন্ম, স্থায়িত্ব এবং ভাঙনের বিভিন্ন স্তরকে উন্মোচিত করে।
প্রথম লেখাটি আবুবকর সিদ্দিকের ‘প্রীতিময় স্মৃতিময়’ গ্রন্থটি পাঠের অভিজ্ঞতা নিয়ে। বইটি নিছক সাহিত্যিকদের ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ নয়, বরং এটি একটি সাংস্কৃতিক আখ্যানের সংরক্ষণাগার। এখানে স্বনামখ্যাত বারোজন কবি, সাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিকের (যেমন: সত্যজিৎ রায়, বুদ্ধদেব বসু, বেগম সুফিয়া কামাল, শামসুর রাহমান, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস প্রমুখ) সঙ্গে লেখকের ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ, পত্র চালাচালি ও স্মৃতির নমুনা হাজির করা হয়েছে।
এই আখ্যানগুলো প্রমাণ করে, কিভাবে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা একটি সম্মিলিত সাংস্কৃতিক স্মৃতিতে রূপান্তরিত হয়, যা অতীতে চলে যাওয়া ব্যক্তিত্বদের বর্তমান বাস্তবে বাঁচিয়ে রাখে।
পাঠপ্রতিক্রিয়ার শেষে তাঁর সাথে এই বইয়ের লেখকের ব্যক্তিগত স্মৃতির কথাও জানতে পারি।
২.
দ্বিতীয় পাঠপ্রতিক্রিয়া হাসান আজিজুল হকের আত্মজীবনীমূলক বই ‘ফিরে যাই ফিরে আসি’ নিয়ে।
লেখাটি শেষ হয়েছে লেখকের স্বাধীনতা বিষয়ক একটা অনুসিদ্ধান্ত দিয়ে। আত্মজীবনীতে একজন লেখকের স্মৃতির যে নির্যাস থাকে, সেটা কতটুকু সত্যাশ্রিত কিম্বা স্মৃতিভ্রমের প্রকোপ থেকে কতটা সুরক্ষিত অবস্থায় এই পর্যন্ত এসেছে তার সাথে একটা পাঠকীয় বোঝাপড়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে গেছেন লেখক। সে কারণে দেখতে পাই, হাসান আজিজুল হক এই বইয়ে যে স্মৃতিচারণ করেছেন; তাঁর জন্ম, শৈশব ও কৈশোরের আগ সময় পর্যন্ত সময়কে তিনি যেভাবে ধরেছেন গল্পের ঢংয়ে, ফিকশন আর নন-ফিকশনের যে ভেদরেখা; তাকে আবিষ্কার করতে গিয়ে রীতিমতো দ্বন্দ্বে পড়ে গিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন— স্মৃতি কি তবে এতটাই সৎ, অপ্রবঞ্চক থেকেছে ‘ভোরবেলাকার চোখে’ তে?
হাসান আজিজুল হক যে কালপর্বের স্মৃতি মন্থন করছেন এই বইয়ে, সেটা ঐতিহাসিক কারণে উপমহাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা সময়। একইসঙ্গে সেই সময়কার সামাজিক-রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক সংকটের চিত্রটাও তাঁর স্মৃতির অন্তর্গত। সেই হিসেবে তাঁর কৈশোরিক অভিজ্ঞতায় এই আত্মজীবনীতে অন্যান্য প্রান্তিক বিষয়ের মতো অবহেলিত না হয়ে বরঞ্চ অনেকটা অনিবার্যভাবে প্রতিফলিত হওয়ার কথা; ঐ চিত্রটা, অবচেতনে হলেও। কিন্তু তেমনটা হয়নি। এই দিক থেকে সম্ভবত লেখকের এমন প্রশ্ন তোলাটা অবান্তর নয়।
৩.
আহমদ ছফার উপন্যাস ‘একজন আলি কেনানের উত্থান পতন’-এর পাঠ প্রতিক্রিয়াটি একটু ভিন্নতর। মুক্তিযুদ্ধ ও তার পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের যে রাজনৈতিক তৎপরতা এবং তা নিয়ে আহমদ ছফার যে রাজনৈতিক ভাষ্য; তার একটা সংশ্লেষ আছে এই লেখাটিতে। একই পরিপ্রেক্ষিতে লেখা সলিমুল্লাহ খানের এবিষয়ক একখানা ভাবনাকেও হাজির করেছেন লেখক প্রসঙ্গক্রমে। বলা চলে বিস্তার ঘটিয়েছেন; যেখানে ছফার রাজনৈতিক ভাষ্য তুলে ধরে যে কিভাবে একটি বিপ্লবী বিশ্বাস দ্রুত ক্ষমতার রাজনীতি ও স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর হাতে জিম্মি হয়ে একটি নতুন শাসক শ্রেণীতে পরিণত হতে পারে, যার মাঝে সলিমুল্লাহ খানের ভাবনাকে টেনে এনে লেখক দেখান যে বুদ্ধিজীবীরা কিভাবে আখ্যানের মাধ্যমে রাজনীতির এই বিবর্তনকে বাস্তবতার একটি নতুন সংজ্ঞা দিতে সচেষ্ট হন।
৪.
এই পাঠ প্রতিক্রিয়া থেকে জানতে পারি ‘নবারুণ ভট্টাচার্যের হারবার্ট উপন্যাস আদতে ইতিহাস ও রাজনীতিকে কবুল করে বলেছে দুটো কথা।’ যার মূল বক্তব্য হলো যে মানব সমাজ টিকে আছে সম্মতি এবং নিয়ন্ত্রণের উপর, যেখানে সমাজের একদল লোক তাদের আরাম ও স্থিতিশীলতার জন্য রাজনৈতিক চেতনার নিষ্ক্রিয়তাকে মেনে নেয়, যা শাসকদের জন্য সুবিধাজনক হয়। কিন্তু অন্যদিকে ‘বারুদ যেখানে জমবার সেখানে জমবেই...’ এই বক্তব্যটি মানব ইতিহাসের সেই অনিবার্য দ্বান্দ্বিকতা প্রকাশ করে, যখন কোনো কল্পিত ব্যবস্থা মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়, তখন সিস্টেম ভেঙে দিতে চাওয়া সেই বিদ্রোহী মনন অবশ্যই জেগে ওঠে, যা সামাজিক স্থিতাবস্থার বিবর্তনীয় ভঙ্গুরতাকেই নির্দেশ করে।
৫.
সলিমুল্লাহ খানের দু’টি বইয়ের আলোচনায় যুগপৎভাবে হাজির হয়েছে ইতিহাস পাঠের বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতা; যা আমাদের একইসঙ্গে ইতিহাস পাঠের জ্ঞানতাত্ত্বিক প্রণোদনা দেয়ার পাশাপাশি আবার তার বিনির্মাণের একটা প্রভাব বিস্তারি ধারার সাথেও পরিচয় করিয়ে দেয়।
আর ফ্রয়েডের ভাষাবিষয়ক ধারণাকে কাজে লাগিয়ে লাকাঁ ভাষার গঠনের যে বিমূর্ত জগতের সন্ধান দেন তাকে উন্মোচন করতে গিয়ে বা বলা ভালো আবিষ্কার করতে যেয়ে পরবর্তীতে সলিমুল্লাহ খান যে প্রস্তাবনা হাজির করেন; এই বইয়ে তারও একটা ধারণা পাই। যা সরাসরি জ্ঞানের বিবর্তন এবং বাস্তবতার প্রকৃতি নিয়ে প্রশ্ন তোলে। কারণ ইতিহাসকে কেবল ঘটনার বিবরণ হিসেবে না দেখে, বরং এর বিনির্মাণ-এর একটি প্রক্রিয়া হিসেবে দেখার অর্থ হলো, আমরা সেই আখ্যানের স্তরবিন্যাস থেকে মুক্ত হতে চাই যা বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতার দ্বারা আরোপিত হয়েছে। এবং লাকাঁ ফ্রয়েডের ধারণাকে ব্যবহার করে দেখান যে ভাষা কেবল যোগাযোগ মাধ্যম নয়, এটিই আমাদের বাস্তবতার চূড়ান্ত কাঠামো, যা ইঙ্গিত করে যে মানুষ্যজাতি তার নিজস্ব তৈরি করা ভাষার বিমূর্ত জগতে বন্দী, যা তাদের চেতনা এবং পরিচয়কে নিয়ন্ত্রণ করে চলেছে।
৬.
অনুপম হায়াতের বই ‘জহির রায়হানের চলচ্চিত্র : পটভূমি বিষয় ও বৈশিষ্ট্য’ নিয়ে এই নাতিদীর্ঘ আলোচনা থেকে জানতে পারি, চলচ্চিত্র নিয়ে জহির রায়হানের বহুমূখী তৎপরতা আর তাঁর এবিষয়ক নানা ভাবনার কথা। একইসঙ্গে একাত্তর সালে মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে তাঁর কর্মকাণ্ডের ইতিবৃত্তও। বইটির পরিচিতিমূলক এই লেখাটিতে ধারাবাহিকভাবে উঠে এসেছে জহির রায়হানকে নিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, বিভিন্ন জনের স্মৃতিচারণে আর প্রতিবেদনে। যা প্রমাণ করে যে, চলচ্চিত্র কিভাবে একটি জাতির ঐতিহাসিক স্মৃতি ও রাজনৈতিক চেতনা নির্মাণে মৌলিক ভূমিকা রাখে।
এই সংকলনটি কেবল বিভিন্ন গ্রন্থ বা মঞ্চনাটকের প্রতিক্রিয়া নয়, বরং চিত্রকলা, দর্শন, স্মৃতি, রাজনীতি এবং ভাষার বহুস্তরিক ভাবনাগুলোর সাথে লেখক-পাঠকের ব্যক্তিগত বোঝাপড়ার যৌথ প্রচেষ্টাও। বইয়ের কিছু কিছু বিষয়ের সাথে আমার পূর্বপরিচিতি ছিল। অল্প-বিস্তর পরিচয় ছিল আরো কিছু বিষয়ের সঙ্গে। কিন্তু অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েই আমি প্রথম জেনেছি এই বই থেকে। যা পরবর্তীকালে আমার চিন্তাচর্চায় ব্যাপক ভূমিকা রাখবে বলেই আমি আশা করি। বইটা পড়ার উদ্দেশ্যও ছিল সেটাই।
খসড়া/সেপ্টেম্বর/২০২০
বই সম্পর্কে~
নাম — বিবিধ অভাব : লিওনার্দো লালন লাঁকা
লেখক — বিধান রিবেরু
প্রচ্ছদ — ধ্রুব এষ
প্রকাশক — ঐতিহ্য
প্রচ্ছদ মূল্য — ২৬০৳
